আমরা কি এই মহাবিশ্বের মালিকের ক্ষমতা ভুলে গেছি
মনে করুন আপনি দয়া করে কয়েক লক্ষ পিপড়াকে আপনার বাড়িতে থাকার অনুমতি দিলেন, সাথে সাথে বলে দিলেন কি কি শর্ত বা নিয়ম মানলে তারা আপনার বাড়িতে থাকতে পারবে এবং খেতে পারবে। আর শর্তগুলো না মানলে তারা আপনার বাড়িতে থাকতে পারবে না বা শাস্তি পেতে হবে। দেখাগুলো পিঁপড়াগুলো আপনার নিয়ম-কানুন কিছুদিন মানাল। ধীরে ধীরে তারা খুব উন্নতি করতে লাগল এবং খুব সুন্দর সুন্দর পিপড়ের অট্টালিকা বানাতে শুরু করল। এরপর তারা নিজেদের উন্নতি দেখে আপনার নিয়মগুলো ভাংগা শুরু করল, কোন কোন পিঁপড়া তো আবার আপনাকেই বাড়িওয়ালা হিসেবে অস্বীকার শুরু করল। আপনি কিছুদিন তাদের এই ধৃষ্টাচার দেখলেন, অবশেষে তাদের অকৃতজ্ঞতা দেখে আপনি পিঁপড়াগুলোকে বিদেয় হতে বললেন, কিন্তু তারা তা তো করলই না বরং আপনার ঘর বাড়িকে নষ্ট করা শুরু করল। অবশেষে আপনি বাধ্য হয়ে কি করবেন? আপনি ইচ্ছে করলেই তাদেরকে পায়ে পিষে মেরে ফেলতে পারেন, কিংবা কিটনাশক স্প্রে করে তাদের সমূলে ধ্বংশ করে দিতে পারেন। আপনার যে এ ক্ষমতা আছে, তা এই পিঁপড়েরা বেমালুম ভুলে গিয়েছিল। অবশেষে আপনি একদিন তাদের একবারে তাদের শেষ করে দিলেন। কাহিনীর এই পিঁপড়েদের মতো একই অবস্থা হয়েছে এই মানব জাতির। আমরা দুনিয়ার উন্নতি দেখে ভাবা শুরু করেছিলাম আমারাই বুঝি এই পৃথিবীর মালিক, আমাদের বুঝি কেউ ছুঁতে পারবে না। কিন্তু আমরা কি চিন্তা করেছিলাম, এই মহাবিশ্বে আমাদের এই পৃথিবীটার অবস্থান কতটুকু। বিশাল এই পুকুরের মাঝে ক্ষুদ্র একটি পানির ফোঁটার মত আকৃতি আমাদের এই পৃথিবীর। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তাকে, তাঁর বাতলে দেওয়া নিয়ম-কানুনকে। আমাদের এই ধৃষ্টতা দেখে তিনি চাইলেই পারতেন এই নগন্য এই পৃথিবীকে একেবারে ধ্বংশ করে দিতে। কিন্তু তিনি তা করেন না, শুধু মাঝে মাঝে শাস্তির ক্ষুদ্র নিদর্শন দিয়ে আমাদের সতর্ক করতে চান। পিঁপড়ের বাসাকে যেমন হালকা ধাক্কা দিলেই ধ্বসে পড়ে, আমাদের এই ধরাকে ধ্বসিয়ে দিতে আল্লাহ তা’আলার কি খুব শক্তির প্রয়োজন পড়বে? পিপড়েদের মতো আমরাও কি এই মহাবিশ্বের মালিকের ক্ষমতা ভুলে গেছি?


















Comments
This post currently has no comments.