পৃথিবীর জীবন এক পরীক্ষার হল
যাকাত, নামাজ, পর্দা, মিরাছ, কোরবানী, মদ না খাওয়া সহ ইসলামের নানা বিধানকে উপেক্ষা,বিদ্রুপ বা সেগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা আজ আমাদের সমাজে ব্যপকতা লাভ করেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ সীমাহীন ভোগ-বিলাসের ইচ্ছা ও চেষ্টা এবং নিজ ইচ্ছেমত চলার মানসিকতা। আল্লাহ তা’আলার আদেশ-নিষেধগুলোকে যখন আমরা আমাদের ভোগের পথে অন্তরায় হিসেবে দেখি তখনই সেগুলোর উপেক্ষা করি আর কেউ কেউ এক ধাপ এগিয়ে বিদ্রোহ করে খোদাদ্রোহীতায় নাম লেখায়।
আমাদের আখেরাত বা পরকালের উপর বিশ্বাস এতটা কমে গেছে যে, আমরা ভাবি এই দুনিয়ায় যদি ভোগ-বিলাস না করি তাহলে হয়তো আর সময় পাবো না !! আল্লাহ তা’আলা যে আমাদেরকে এই দুনিয়ায় কিছুদিন তার নিয়মগুলো মেনে চললে, পরকালে অফুরন্ত ভোগ-বিলাসের সময় দিবেন; সে কথার উপর আমাদের আস্থা কমে গেছে ! তাই- ‘যতদিন আছি ততদিন ভোগ-বিলাসে, নানা পাপে মেতে নেই; পরকালে কি আছে সেটার গ্যারন্টি কে দিবে।’ আর এই বিশ্বাসই সব পাপাচার অনাচারের মূল! এই লাগামহীন জীবনে তাই ইসলামের সীমা বেঁধে দেওয়াটা আমাদের খুব খারাপ লাগে। তাই আমরা আজ সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলি, আর নিজেকে খুব স্বাধীন ও আধুনিক ভাবি। কিন্তু এই লাগামহীনতা যে পরকালে আমাদের জীবনে কতটা বিপর্যয় নিয়ে আসবে, সাথে সাথে আমাদের পরকালের অফুরন্ত ভোগ-বিলাসের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে তা আমরা চিন্তা করার সময় পাই না।
যেমন ধরুন, পরীক্ষার খাতায় আমরা যা খুশি তা লেখতে পারিনা, আমাদেরকে প্রশ্নে যতটুকু লিখতে বলা হয় ততটকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া অন্যান্য সময়ে আমাদের মন মতো আমরা ছড়া, কবিতা বা যা ইচ্ছে তাই লিখতে পারি। কিন্তু এর জন্য কখনো কিন্তু আমরা পরীক্ষা ছেড়ে দেই না বা পরীক্ষার বিরুদ্ধে স্লোগান তুলিনা। কারণ আমাদের জানা আছে যে, এই বাধ্য-বাধকতা নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য। এই সময়টা এই নিয়মের মধ্যে পার করতে পারলে তা যেমন আমার ভবিষ্যত জীবনের উপকারে আসবে, ঠিক তেমনি এই সময় পার করার পর আমার উপর আর সে বাধ্য-বাধকতা থাকবে না।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের এই পৃথিবীর জীবনকে পরীক্ষার সময়ের মতো দিয়েছেন। পরীক্ষার সময় পার করার পর যেমন আমাদের কি লিখতে হবে কি লিখতে হবে না সে বাধ্য-বাধকতা থাকে না; ঠিক তেমনি দুনিয়ার জীবন পার করার পর কি করতে পারবো আর কি করতে পারবো না সে বাধ্য-বাধকতা আল্লাহ তা’আলা উঠিয়ে নিবেন। পরীক্ষার খাতায় নিজের মন মতো যা খুশি তা লেখলে তার মাসুল গুনতে হয় পরবর্তী জীবনে ঠিক তেমনি এই দুনিয়ার পরীক্ষায় আল্লাহ তা’আলার হুকুম অমান্য করে যা খুশি তা করলে তার মাসুল গুনতে হবে পরকালে।
তাই দুনিয়ার জীবনেই আমাদেরকে বেছে নিতে হবে সঠিক পথ। আমরা কি নিজ খেয়াল খুশি আর যথেচ্চার ভোগ-বিলাসে মাততে ইসলামকে উপেক্ষা করব, নাকি ইসলামের পথেই চলব। আমাদের গন্তব্যই নির্ধারণ করে দিবে আমাদের পরকালের জীবনের পরিণতি। আল্লাহ তা’আলা আমাকে ও সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন


















Comments
This post currently has no comments.